অন্যান্য

এই গরমের গরজিয়াস আউটলুক


মডেল : রিতিকা জান্নাত

চলছে গ্রীষ্মের শেষ সময়। কিন্তু গরম কমেনি মোটেও। মাঝে-মধ্যে বৃষ্টি হলেও গুমোট গরম কাটছে না। তাই এই গরমে সবচেয়ে উপযুক্ত হচ্ছে সূতি পোশাক। মানুষ এখন সুন্দরের পাশাপাশি আরামের বিষয়েও সচেতন। পোশাকের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়।
|আরো খবর

আর আরামদায়ক পোশাকের জন্য অনেকেই ঢুঁ মারেন বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসগুলোতে। কেউ আবার টেইলারের দোকান থেকে তৈরি করে নেন সূতি কাপড়ের বিভিন্ন আরামদায়ক পোশাক।

প্রকৃতির পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও জীবনাচরণে পরিবর্তন আসে। পরিবর্তনের এ তালিকায় পোশাকের আরামটা খুবই জরুরি। অতএব, আবহাওয়ার সঙ্গে তাল-মিলিয়ে পোশাক না পরলে অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়। যে কারণে ঋতুভিত্তিক পোশাক মানুষের এখন প্রথম পছন্দ।

ফ্যাশন হাউসগুলো এ ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ঋতুভিত্তিক পোশাক এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিচিত রূপ। কোন ঋতুর সঙ্গে কোন পোশাকটি মানানসই তা নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করা হয়। আর হবেই বা না কেন। বিশ্ব ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে এ দেশের ফ্যাশন জগৎ। আর এ পথচলায় ফ্যাশন হাউসগুলোও অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।

কাপড় নির্বাচন

দেশীয় কিংবা পাশ্চাত্য। পোশাকের কাট-ছাঁট যে দেশেরই হোক না কেন, কাপড় হতে হবে পাতলা। ফ্যাশনের সঙ্গে সঙ্গে যেন আরামটাও পুরোপুরি পাওয়া যায় সে বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। শিফন, সূতি, ক্রেপ, জর্জেট, সিল্ক, লিনেন, ভালো মানের নেটের তৈরি পোশাকগুলোতে আরাম পাওয়া যাবে বলে জানান ডিজাইনাররা। সূতির কাপড় সব থেকে আরামের হলেও এটি সব জায়গার জন্য মানানসই নয়। শিফনের কাপড় এ ক্ষেত্রে হতে পারে আদর্শ বাছাই। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ সবকিছুতেই আভিজাত্য নিয়ে আসবে। মানিয়ে যাবে দিনে ও রাতে দুই সময়েই।

মানান সই রঙ

চোখের শান্তি বলে একটি কথা আছে। যে পোশাকটা দেখাতে ভালো লাগে, সেটা পরতেও আরাম লাগে। তাই এ সময়ের পোশাকের রং হবে হালকা যেমন- হালকা নীল, সাদা, গোলাপি, লেবু রং, হালকা বেগুনি, আকাশি এসব রঙের পোশাকই গরমে আরামদায়ক।

সূতির কদর

সূতি কাপড়ের পোশাক শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে। ঘাম শোষণ করে নেয় সহজেই। তাছাড়া গরমে চুলকানি, ঘামাচি, অ্যালার্জির মতো সমস্যাও দেখা দেয়। যাদের প্রতিদিন বেরোতে হয় ক্লাসে বা কাজের জন্য, তারা দিব্যি সারাদিনের স্বস্তির জন্য বিশ্বাস রাখতে পারেন সূতি কাপড়ের ওপর। দিনের বেলায় হলুদ, গোলাপি, বেগুনির মতো গাঢ় রঙের পাশাপাশি বিভিন্ন প্যাস্টেল শেডগুলোও ভালো লাগবে।

এখন সূতি পোশাকের নকশাতে একইসঙ্গে দেশজ ঐতিহ্য আর হাল ফ্যাশনের আধুনিকতার যুগলবন্দি দেখা যাচ্ছে। সূতি মানেই একরঙা, একঘেয়ে- এ ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে। তাছাড়া পোশাকের গলা বা হাতার নকশায় বৈচিত্র্য এনে অনায়াসে সূতির কাপড়ে নিয়ে আসতে পারেন দারুণ বৈচিত্র্য। রোদ থেকে বাঁচতে আপনার হয়তো বড় হাতার পোশাক পরার ইচ্ছে হলো। ব্যস কামিজের ক্ষেত্রে কনুইয়ের ওপরের অংশে সুতি এবং নিচের অংশে সাটিন, সিল্ক্ক, নেটের ব্যবহারে চলতি ফ্যাশনের দারুণ সব নকশা ফুটিয়ে তুলতে পারেন। কিছুদিন আগেও হয়তো জিন্স বা লেগিংস দিয়েই কুর্তা, কামিজ পরতে স্বাছন্দ্যবোধ করছিলেন। এবার চোখ বন্ধ করে বেছে নিন পালাজ্জো বা প্যান্ট কাটের সুতির সালোয়ার। আরাম আর ফ্যাশন দুটোই চলবে সমানতালে।

গজ কাপড়

পছন্দ মতো পোশাক বানাতে চাইলে কিনতে পারেন গজ কাপড়, তার জন্য আপনাকে যেতে হবে চাঁদনী চক, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, গুলিস্থান, বসুন্ধরা শপিংমলে। এসব মার্কেট ছাড়াও ছোট-বড় অনেক মার্কেটে সূতি গজ কাপড় পাবেন। সূতি কাপড়ের পাশাপাশি গরমে শিফন, কটন, কোটা কাপড়ের পোশাকেরও রয়েছে বেশ জনপ্রিয়তা।

পোশাকের ধরন

অনেকেই পোশাকের ধরনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয় না। সেক্ষেত্রে বেছে নেয় এই গরমে কামিজ, টি-শাট, টপ, কুর্তা, স্লিভলেস কামিজ, স্লিভলেস কুর্তা, লঙ কুর্তি, কাফতান, এছাড়াও ফ্রক ও ম্যাক্সি ধাঁচের কামিজ ইত্যাদি।

কোথায় পাবেন

আড়ং তাগা, সেইলর, রা-রিভ, স্মার্টেক্স, বিশ্ব রঙ, ইয়োলো, ক্যাটস আই, অঞ্জন’স, এক্সট্যাসি, কে-ক্র্যাফট, টুয়েলভ আরো অনেক দেশি এবং বিদেশি ব্রান্ডে।

ডিসকাউন্ট আসর

করোনাকালীন এই সময়ে দীর্ঘ ৫ মাস বন্ধ থাকার কারণে দেশের সব শো-রুমগুলোতে এখন কম বেশি ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে। তবে ডিসকাউন্ট দেয়া হচ্ছে ২০-৭০% পর্যন্ত এবং মোটামুটি সব পণ্যের ক্ষেত্রে।

পোশাকের ফ্যাব্রিক বাছার সময়ে যে বিষয়গুলি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন

১। ভারী ফ্যাব্রিকের বদলে হালকা ফ্যাব্রিক বাছাই করুন। জমকালো এমব্রয়েডারি করা পোশাক গরমকালে পরবেন না। যদি কোনো অনুষ্ঠানে যেতে চান সেক্ষেত্রে চিকনকারি পরতে পারেন। ২। ন্যাচারাল ফাইবারের পোশাক গরমকালে পরলে তা বেশ আরামদায়ক হয়। উপরোক্ত প্রথম দুটি ফ্যাব্রিক অর্থাৎ লিনেন এবং খাদি দুটিই ন্যাচারাল ফ্যাব্রিক। এতে গায়ে র‍্যাশ বেরনোর আশঙ্কা অনেক কম থাকে।

৩। যে পোশাকটি পরছেন তা ব্রিদেবল কিনা সে ব্যাপারে নজর রাখুন। ব্রিদেবল অর্থাৎ পোশাকটি পরলে শরীরে হাওয়া লাগবে কিনা সে বিষয়টি মাথায় রেখেই পোশাক বাছুন। পোশাকের ফ্যাব্রিক যত ব্রিদেবল হবে, তত বেশি আরামদায়ক এবং ঘাম হবে কম।
৪। গরমকালে পোশাক বাছার সময়ে কিন্তু রঙের বিষয়টিও মাথায় রাখা উচিত। উজ্জ্বল রং পরুন কোনো ক্ষতি নেই, কিন্তু ক্যাটক্যাটে রং না পরাই ভাল। এমনিতেই গরমকালে চারদিকে ঝলসানো তাপমাত্রা থাকে, তার উপরে যদি ক্যাটক্যাটে কমলা বা গোলাপি বা সবুজ পরেন তাহলে তা চোখের পক্ষে বড়ই কষ্টদায়ক। এমন রং পরুন যা দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

Related posts

অশ্লীল গল্পে অভিনয় করবো না

fazbir

সাইফ শুভ’র ‘নষ্ট মানুষ’

fazbir

করোনাকে জয় করে ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে যাক! ঈদ মোবারক।

fazbir

Leave a Comment